খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম: কেন নয়?

 খাবার!

বাংলাদেশে অনেকগুলো সামাজিক উদ্যোগ আছে, যারা সরাসরি খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেন। অনেকে রান্না করে খাওয়ান, অনেকে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। রাস্তাঘাট, শপিংমল, অনলাইনে এসবের জন্য তারা সরাসরি অর্থউত্তোলন করেন, আপনাকে দান করতে উৎসাহিত করেন  এবং সামাজিক মাধ্যমে অনেক আবেগঘন স্টোরি শেয়ার করেন । এসব যারা করেন, তাদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে একটু ভিন্ন মত তুলে ধরতে চাই। 

খাবারের সাথে মানুষের আবেগ প্রাচীন। খাবার খেতে ও খাওয়াতে ভালোবাসেনা এরকম মানুষ নেই বললেই চলে। এটা মানুষের ইবাদত, উৎসব সবকিছুর সাথে জড়িত।  মানুষ জন্মালে সবাই মিলে খায়, মানুষ মরলেও সবাই মিলে খায়! বিয়ে-শাদী,  প্রার্থনা -পার্বণ, জিয়াফত, ওরস কতই না খাবার বাহানা। কিন্তু আধুনিক সময়ে শহরের রাস্তায় খাবার বিতরণে একটু ভিন্নমাত্রা আছে। 

দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে লঙ্গর খানা চালুর ইতিহাস এ অঞ্চলে প্রাচীন। ঝড়, বন্যা, ছাড়াও যুদ্ধকালীন সময়েও লঙ্গরখানা চালুর ইতিহাস রয়েছে। তবে কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দরিদ্র মানুষদের বাড়ী  খাবার পোঁছানোর সুন্দর নজির রয়েছে। 

কিন্তু আসল সত্য হলো, আপদকালীন সময় ছাড়া সব রকমের খাবার বিতরণ হলো একধরণের উৎসব। একবেলা ভালো খাবার খেয়ে মানুষের জীবনে কোন পরিবর্তন আসেনা, আসার সুযোগ নাই। এতে কেবল যিনি বা যারা খাইয়ে থাকেন তারা চিত্তে হর্ষ  অনুভব করেন বা আমোদ পেয়ে থাকেন। ৮০০ বছর ধরে চলতে থাকা হাইকোর্ট মাজারের এক বেলার লঙ্গরখানা যেমন জাতির কোনো মঙ্গল করেনি, তেমনি গত কয়েক বছর ধরে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের তিন বেলা খাইয়ে তাদের জীবনের এক ইঞ্চিও বদলায়নি। তাহলে এই খাবারের উৎসব কেন ? বাংলাদেশের মানুষ কি না খেয়ে মরে যাচ্ছে? 

আফ্রিকার, সিরিয়ার অনাহারী মানুষের চেহারা দেখুন, আর বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের চেহারা দেখুন।  না খেয়ে থাকা আর অপুষ্টিতে ভোগার মধ্যে নিশ্চয়ই পার্থ্যক্য আছে। এভাবে অপরিকল্পিত খাবার বিতরণ মানুষের মধ্যে আত্মউন্নয়ন আকাঙ্খা ও টেকসই জাতীয় উন্নয়ন ভাবনাকে বিপথগামী করে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে হাজার মানুষকে  একবেলা না খাইয়ে, ক্ষুদার্থ মানুষকে খাবার বিতরণের বিজ্ঞাপন না দিয়ে অন্তত একজন মানুষের কল্যাণ করুন, যাতে সে আগামীকাল নিজের অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজেই খাবার কিনে খেতে পারে। দরকার হলে তাকে শিক্ষা- প্রশিক্ষণ দিন, স্বাবলম্বী মানুষের কাতারে নিয়ে আসুন। দেখবেন সত্যি দারিদ্র কমে যাবে, সমাজের এর মধ্যে ভিক্ষার মানসিকতা দূর হবে। আর মানুষকে উন্নয়ন বঞ্চিত রেখে, তাকে একবেলা খিচুড়ি, বিরিয়ানী বিলিয়ে তৃপ্তি পাওয়া কি অন্যায্য নয়?

প্রশ্ন রেখে গেলাম। সম্ভব হলে উত্তর দিয়ে যাবেন। 


Dhaka | April 16, 2023

নিলয় শাহ্‌রিয়ার 
শাহ্‌রিয়ার কামাল নিলয় 
বিপনন ও ক্রয় সংক্রান্ত যোগাযোগ কৌশল, পরিবেশ, মানব সম্পদ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, উন্নয়ন অধ্যয়ন, বিজ্ঞাপন ও প্রকাশনা বিষয়ে আলোচনা করেন এবং তিনি একটি উন্নয়নকামী প্রতিষ্ঠানে রুজিরোজগারে নিবিষ্ট।
কাজের অবসরে চেষ্টা করেন নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে। যোগাযোগ করতে পারেন নিম্নোক্ত মাধ্যমে: 

                                                                                                                
https://niloyshahriar.blogspot.com/https://www.facebook.com/niloy.shahriar.k  https://twitter.com/NiloyShahriarK https://www.instagram.com/niloy_shahriar/ https://www.linkedin.com/in/niloyshahriark/

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একটি অসাধারন পিপড়ার গল্প | Corporate Culture

সমসাময়িক রাজনীতি: শেখ মুজিবের অবদান, বিতর্ক ও জনগণের মনোভাব

Foreign Aid's Tug-of-War: Bangladesh's Quest for Development Resilience?