সমসাময়িক রাজনীতি: শেখ মুজিবের অবদান, বিতর্ক ও জনগণের মনোভাব

 কেন আজ অপ্রাসঙ্গিক শেখ মুজিব? জানবো এবং বুঝবার চেষ্টা করবো কোন ঘটনার জন্য সদা প্রাসঙ্গিক এক নায়ক কিভাবে অতিপ্রচারের ফলে আজ এক বিতর্কিত চরিত্র!

প্রথমত, স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অবদান অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই, আপনি যেম্নেই ইতিহাস লিখেন না কেন। কিন্তু উনার ইমেজ নষ্ট করেছে আওয়ামীলীগ এবং উনার মেয়ে স্বৈরাচার হাসিনা।

 যেমনে উনারে মুজিবরে রোজ সেল করেছেন; ২০০৯-২৪ পর্যন্ত আ.লীগ দেশে উনার স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭২-৭৫ শাসনামল ওবজেক্টিভ অ্যানালাইসিস বা ক্রিটিসিজম করতে না দেয়ার যে প্রবনতা ছিলো; আবার প্রফেটিক ফিগ্যার তৈরির মানসিকতাও দেখা গেছে। 

এমন হইছে যে এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী মুজিবরে আঁকতে গিয়া একটু কার্টুন কার্টুন ভাব আসছে, ৮-৯ বছরের একটা বাচ্চার আঁকা; সেটা এক জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করায় সচিবালয় থেকে যেভাবে হয়রানি করা হইছিলো, সেই ডিসির তো বাঁইচা থাকার মতো সিচুয়েশন ছিলো না তখন; অনেকে তখ প্রোফাইল পিকচারে ওই ছবি আইনা বিভিন্ন পয়েন্ট অব ভিউ থাইকা পোস্ট লেইখা ব্যপারটা নরমালাইজ করছিলো। 

বঙ্গবন্ধু নিয়া কটাক্ষ করায় একটা আওয়ামী গোষ্ঠীর অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হইতো এবং উনারা মামলাও কর‍্যেন; ৫৭ ধারার মতো বিতর্কিত আইনে। 

যার ফলস্বরূপ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বাংলাদেশে শেখ মুজিবের অবদানকে বর্তমানে একটা গোষ্ঠী অস্বীকার করতে চাইছে, যার বীজটা রোপণ করছে আ.লীগ এই ১৪ বছরে মুজিবরে সব কিছুর উর্দ্ধে রাইখা; প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুষ্ঠান, প্রতিদিন স্বজন হারানো বেদনার নামে উনার পরিবারের মৃ*ত সদস্যদের লা*শ বিক্রি; এসবের জন্য মুজিবের অবদান এমনকি এন্টি হাসিনা ম্যুভমেন্টের থেকেও বেশি করে মুজিবের ম্যুরাল ভাঙ্গা একটা এন্টিমুজিব, এন্টিস্বাধীনতা ম্যুভমেন্ট তৈরি হইছে। 

পাবলিকলি কেউ মুজিবরে নিয়া কোন স্টেটমেন্ট দিতে চায় না। 

এই সবটার ক্রেডিট আওয়ামী লীগের; এবং স্বৈরাচার হাসিনার। 

মানছি ইন্টেরিম গভমেন্ট সব সাব্জেক্টে ভালো করতে পারছে না, উনারা হিসাববিজ্ঞান, অর্থশাস্ত্র এসবে ড. সালেহউদ্দিন আর ড. আহসান হ. মনসুর এর মতো পরিশ্রমী মানুষ পাইছে বলেই সম্ভব হইছে; অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বিভাগে ডাব্বা খাওয়ার মতো, মব তৈরি করার মতো অভিযোগও আছে; উপদেষ্টারাও এখন হাসিনার আমলের মন্ত্রীদের মতো জনগণরে তোয়াক্কা না কইরা, মনমর্জিমতো স্টেটমেন্ট দেয়। কিন্তু তারপরও ইন্টেরিমের বেশিরভাগ লোকজন চেষ্টা চালায় যাইতেছে, আন্তরিক ভাবে, নমনীয় হয়ে। যেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা রেফারেন্স তৈরি করছে। দমনীয় মানসিকতা হইলে গদি ধইরা টান মারতে পাবলিক দুইবার ভাববে না। 

ইন্টেরিম গভমেন্টের এই ইন্টার্নশীপের পর তো আমরা তাদের জব পার্মানেন্ট করার মতো অবস্থায় যেতে পারবো না। তাই হয়তো তাদের কিছুটা পারফর্ম কম করছে, হোমওয়ার্ক কম করছে। 

কিন্তু বাংলাদেশে আগষ্ট যেভাবে বারবার ডিগবাজি দিলো, সেটা স্বৈরাচার এরশাদের ডিগবাজিরেও হার মানিয়েছে। 

এতো কিছুর পর স্বাধীনতার সংগ্রামে মুজিবের ক্রেডিট কিন্তু মুজিবেরই। মুজিবের পরিবার যেভাবে অন্যদের ডিসক্রেডিট করছে, এখন মুজিবরে একইভাবে ডিসক্রেডিট করা হইতেছে। টিট ফর ট্যাট আরকি। 

এই সম্পূর্ণ লেখাটা একটা রেফারেন্স, বর্তমান সময়ের চালচিত্র। মুজিব স্বাধীনতা সংগ্রামে যে লিডারশীপ দেখাইছে, সেটা ওই সময় সবাই স্বীকার করে।

কয়েকদিন আগে আমার বাবা বলছিলো, ৭১-এর কোন একদিন মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এলাকায় পাকিস্তানের সেনারা লোকালয়ে আগুন দিতে আসলে, সকল স্থানীয়দের সাথে এক বৃদ্ধা পালাতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো,.....

"এ মজিবর, তোর ঠে বন্দুক নাই, তাহো তুই কেনে যুদ্ধ করিবা গেইছি বা?"
(হে মুজিব, তোমার কাছে বন্দুক নেই জেনেও কেন তুমি যুদ্ধের ডাক দিয়েছো, বাবা?) 


অথচ মুজিবের ওপর তখন জনগণ রাগ করে নাই। যেটা বর্তমান সময়ে কিছুটা অবাকই লাগে। 


কেননা স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে মুজিব ছিলো যথেষ্ট বিতর্কিত এবং আওয়ামী লীগের ১৪ বছতের শাসনামলে উনাকে অতিরিক্ত তোষামোদ মূলত আজ ইন্টেরিমকে স্ট্যাটমেন্ট দিতে বাধ্য করেছে যে আজ ১৫ আগস্ট কোন কর্মসূচী পালন করা যাবে না। 


যাই হোক, আমরা বাংলাদেশী জনগণ ইতিহাস পড়ি না বলে আমাদের বারবার একই রকম ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। 


image

image

Niloy Shahriar

Development Professional 

The Wellbeing Spokesperson

নিলয় শাহরিয়ার, একজন উন্নয়ন কর্মী 

এবং মানবিক জীবনবোধের ধারাভাষ্যকার 



image

facebook

twitter

linkedin

instagram

website

© Niloy Shahriar | August 2025

#বঙ্গবন্ধুর_অবদান_বনাম_আওয়ামী_লীগের_তোষামোদ: #ইতিহাসের_বিকৃতি_ও_বর্তমান_বাস্তবতা

#স্বাধীনতার_নায়ক_থেকে_বিতর্কিত_প্রতীক: #১৪_বছরের_শাসনে_বঙ্গবন্ধুর_ইমেজের_বিবর্তন 

#ভাবমূর্তি: #মূর্তি_কই_শুধুই_ভাব! 

#ইতিহাসের_বিকৃতি, #রাজনৈতিক_তোষামোদ ও #জনমতের_পরিবর্তন: #এক_সমসাময়িক_পাঠ

মন্তব্যসমূহ

  1. Great insights in this post—really highlights how the digital landscape is evolving rapidly. For anyone looking to build a flexible career online or explore remote opportunities, I’d highly recommend checking out RemoteJobsUK.com. It’s a growing platform founded by Kashem Mir (Mir Abul Kashem), a skilled web developer, digital marketer, entrepreneur, and SEO expert.

    The site is especially useful for discovering remote job opportunities and learning practical strategies for succeeding online. Definitely worth a visit if you're serious about working remotely or scaling your digital presence!

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একটি অসাধারন পিপড়ার গল্প | Corporate Culture

Foreign Aid's Tug-of-War: Bangladesh's Quest for Development Resilience?